
চিরকালের গায়ক মাইকেল জ্যাকসন : জেমস
ছুটির দিনের সকালটা শুরু হয়েছিল অলসভাবে। হঠাৎ বিষণম্নতা ভর করল একটি দুঃসংবাদ শুনে- প্রিয় গায়ক মাইকেল জ্যাকসন আর নেই। স্টস্নব্ধ হয়ে ভাবতে থাকি- একজন প্রাণবনস্ন যুবক এভাবে হতবাক করে সবাইকে কিছু বুঝতে না দিয়ে কী করে চলে গেলেন? জ্যাকসন পঞ্চাশে পৌঁছেছিলেন, তারপরও তিনি যুবক; আপাদমস্টস্নক যুবক- তার গানে, তার অসাধারণ নৃত্যভঙ্গিমায় তিনি বিশ্বতারুণ্যকে ধারণ করেছিলেন শিরা-উপশিরায়। বিশ্বের দেশে দেশে, নানা বয়সী সঙ্গীতপিপাসুদের মধ্যে পপ গানের সর্বোচ্চ সাধকের নাম মাইকেল জ্যাকসন। কী অবিশ্বাস্য তার দ্রুতলয়- গান ও পারফরম্যান্স উভয়ক্ষেত্রে তার তুলনীয় প্রতিভা সারাবিশ্বেই বিরল। আশি দশক মহৃলত জ্যাকসনের মহৃল উত্থানপর্ব। মনে পড়ে, ‘থ্রিলার’ বা ‘অফ দ্য ওয়াল’ বা ‘ব্যাড’ শোনার প্রাথমিক প্রতিত্রিক্রয়ার কথা। অবিশ্বাস্য দ্রুতগতির অথচ কত সঙ্গীতময়। তারুণ্যে ভরপুর, এক নিঃশ্বাসে অনেক সময় কিছু কথা অসঙষদ্ব মনে হয়- কিন্তু খানিক মনোযোগ দিলেই বোঝা যায়- টগবগে প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা গানের কথাগুলোর মধ্যে একধরনের চিরকালীন দার্শনিকতাও আছে। মাইকেল জ্যাকসন সময়ের সীমানা পেরিয়ে যেন চিরকালের গায়ক।
সঙ্গীতের নিজস্ট্ব একটি ভাষাশৈলী আছে, যা দেশ-কালের গ-ি মানে না। জ্যাকসনের গানে তার পহৃর্ণ প্রকাশ লক্ষ্য করেছি। যিনি ইংরেজি ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেন না, তিনিও জ্যাকসনের সুর-লয়ের জাদুতে মুগ্গব্দ হন। মাইকেল জ্যাকসন তাই এক বিশ্বগায়ক।
তিনি নিজে গান লিখে মিউজিক কমেঙাজিশন করে তার পরফরম্যান্স সদ্বাইলও ঠিক করে নিয়েছেন। এ ধরনের বহুপ্রজ পারফরমার যে কোনো কালেই বিরল। ‘আই এম সদ্বার্টিং উইথ দ্য ম্যান ইন/ দ্য মিরর/ আই এম আস্ট্কিং হিম টু চেইঞ্জ/ হিজ ওয়েজ/ অ্যান্ড নো ম্যাসেজ কুড হ্যাভ/ বিন এনি ক্লিয়ারার/ ইফ ইউ ওয়াল্পম্না মেইক দ্য ওয়ার্ল্ড/ এ বেটার প্ট্নেস...’ কী নিরিবিলি, সহজ অথচ গভীর কথা। গানের জন্য অনেক পরিশ্রম করতেন জ্যাকসন, নানা নিরীক্ষা প্রতিনিয়ত তাকে এক আ্যলবাম থেকে আরেক অ্যালবামে ভিল্পম্নমাত্রায় উপস্ট্থাপন করেছে। এ কারণেই জনপ্রিয়তার তুলনায় তার অ্যালবাম সংখ্যা বেশ কম। তবে এই কম সংখ্যক অ্যালবামেই তিনি শ্রোতাপ্রিয়তার ক্ষেত্রে যে দুর্লভ রেকর্ড করেছেন, তা ভাবীকালে যে কোনো গায়কের পক্ষে অতিত্রক্রম করা কষদ্বকর হবে।
মিউজিক ভিডিওর ব্যাপারটিকেই জ্যাকসন বদলে দিয়েছিলেন আগাগোড়া। পহৃর্ণাঙ্গ সেদ্বারি লাইন, ড্যান্স রুটিন, সেঙশাল ইফেক্টস ইত্যাদির ব্যবহারে জ্যাকসনকে আর নতুন কোনো মিউজিক ভিডিওতে দেখতে পাব না- ভাবতে কষদ্ব হচ্ছে। মনে পড়ছে, ‘থ্রিলার’-এর ১৪ মিনিট-দীর্ঘ মিউজিক ভিডিওটির কথা। গান যে দেখার বিষয়ও বটে, সারাবিশ্বের মানুষের সামনে তা সার্থকভাবে প্রমাণ করেছেন মাইকেল জ্যাকসন।
‘শিল্কপ্পীর পাগলামি’- বেশ ভালোভাবেই ছিল মাইকেল জ্যাকসনের। আজ এই বিতর্কে জড়াচ্ছেন, কাল আবার তার বিরুদেব্দ আরেক অভিযোগ... ক্যারিয়ারের প্রায় শুরু থেকেই এমন চাঁদে-পাওয়া ছিলেন তিনি। হয়তো তাই নিজের আত্ম্মজীবনীর নাম এ কারণেই দিয়েছেন জ্যাকসন- ‘মুনওয়াক।’ এই চাঁদে-পাওয়া এলোমেলো গায়কের ভেতর যে বিশুদব্দ এক শিল্কপ্পী বাস করতেন তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি তার গানের পর গানে। মনে পড়ছে তার অমর গান ‘থ্রিলার’-এর ফাসর্দ্ব ভার্স : ‘ইটস ক্লোজ টু মিডনাইট অ্যান্ড সামথিং ইভিল’স লার্কিং ইন দ্য ডার্ক/ আন্ডার দ্য মুনলাইট ইউ সি এ সাইট দ্যাট অলমোসদ্ব সদ্বপস ইওর হার্ট/ ইউ ট্রাই টু স্ট্ক্রিম বাট টেরর টেকস দ্য সাউন্ড বিফোর ইউ মেইক ইট/ ইউ সদ্বার্ট টু ফিদ্ধজ অ্যাজ হরর লুকস ইউ রাইট বিটুইন দ্য আইজ/ ইউ আর প্যারালাইজড...’ ছন্দ আছে, লয় আছে, ভাবের গভীরতা আছে আর আছে জ্যাকসনের প্রিয় ‘মুনলাইট’।
হয়তো চন্দ্রগ্রস্টস্ন মাইকেল জ্যাকসন তাই অনেক দ্রুতই চলে গেলেন ফিরে-না-আসার দেশে। তবে জ্যাকসনের তারুণ্যদীপ্টস্ন অসামান্য কীর্তি তাকে মানুষের কাছে অবিস্ট্মরণীয় এক গায়ক হিসেবে বাঁচিয়ে রাখবে অনেক অনেক দিন!
No comments:
Post a Comment